ভৌত রাশি(Physical Quantity)
ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে ভৌত রাশি বলে।
পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত এবং আইসিটির প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক টার্মের প্রমিত বাংলা ও ইংরেজি নাম, সংজ্ঞাকারী সমীকরণ, এসআই একক, মাত্রিক সংকেত এবং বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর একসাথে।
ভৌত জগতে যা কিছু পরিমাপ করা যায় তাকে ভৌত রাশি বলে।
নির্দিষ্ট দিকে কোনো গতিশীল বস্তুর আদি ও শেষ অবস্থানের মধ্যকার সরলরৈখিক ন্যূনতম দূরত্বকে সরণ বলে।
নির্দিষ্ট দিকে সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে।
সময়ের সাথে কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে।
যা স্থির বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে তাকে গতিশীল করে বা করতে চায়, অথবা গতিশীল বস্তুর ওপর ক্রিয়া করে তার গতির পরিবর্তন করে বা করতে চায়, তাকে বল বলে।
কোনো গতিশীল বস্তুর ভর ও বেগের গুণফলকে তার ভরবেগ বলে।
একটি বস্তু যখন অন্য একটি বস্তুর সংস্পর্শে থেকে গতিশীল হয় বা হতে চেষ্টা করে, তখন তাদের স্পর্শতলে গতির বিরুদ্ধে যে বাধার সৃষ্টি হয় তাকে ঘর্ষণ বলে।
এই মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুকণা তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দ্বারা আকর্ষণ করে তাকে মহাকর্ষ বলে।
কোনো বস্তুর ওপর বল প্রযুক্ত হয়ে যদি বলের অভিমুখে বস্তুর সরণ ঘটে, তবে প্রযুক্ত বল ও বলের অভিমুখে সরণের উপাংশের গুণফলকে কাজ বলে।
কোনো গতিশীল বস্তু তার গতির কারণে কাজ করার যে সামর্থ্য অর্জন করে, তাকে তার গতিশক্তি বলে।
স্বাভাবিক অবস্থান বা আকৃতি থেকে পরিবর্তন করে কোনো বস্তুকে অন্য কোনো অবস্থান বা আকৃতিতে আনলে বস্তু কাজ করার যে সামর্থ্য অর্জন করে তাকে বিভব শক্তি বলে।
কোনো ব্যক্তি বা উৎসের কাজ করার সময়ভিত্তিক হারকে ক্ষমতা বলে।
কোনো তলের একক ক্ষেত্রফলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত বলকে চাপ বলে।
কোনো বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
কোনো বস্তুকে স্থির তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত করলে বস্তুটি কিছুটা ওজন হারায় বলে মনে হয়; এই আপাত হারানো ওজন বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরলের ওজনের সমান।
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ এবং নির্দিষ্ট মাধ্যমে আলোর বেগের অনুপাতকে ওই মাধ্যমের পরম প্রতিসরণাঙ্ক বলে।
অসীম দূরত্ব থেকে প্রতি একক ধনাত্মক আধানকে তড়িৎক্ষেত্রের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে আনতে যে পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে ওই বিন্দুর তড়িৎ বিভব বলে।
পরিবাহীর যে ধর্মের জন্য এর মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তাকে রোধ বলে।
আলো বা তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণের একটি ফোটনের শক্তি এবং তার কম্পাঙ্কের মধ্যকার সমানুপাতিক মৌলিক ধ্রুবককে প্লাঙ্কের ধ্রুবক বলে।
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে কিন্তু স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না, তাকে পরমাণু বলে।
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে এবং যাতে পদার্থের সব ধর্ম অক্ষুণ্ণ থাকে, তাকে অণু বলে।
যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যার ভিন্নতার কারণে ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
কোনো পদার্থের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগ্যাড্রোর সংখ্যা সংখ্যক ($৬.০২৩ \times ১০^{২৩}$) মৌলিক কণা (অণু, পরমাণু বা আয়ন) বিদ্যমান থাকে, তাকে ঐ পদার্থের এক মোল বলে।
কোনো পদার্থের এক মোল পরিমাণ কণার সামগ্রিক ভরকে তার মোলার ভর বলে।
নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১ লিটার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের মোল সংখ্যাকে ঐ দ্রবণের মোলার ঘনমাত্রা বা মোলারিটি বলে।
কোনো মৌলের একটি পরমাণুর অন্য কোনো মৌলের পরমাণুর সাথে যুক্ত হওয়ার সামর্থ্যকে তার যোজ্যতা বলে।
অণুতে পরমাণুসমূহ যে আকর্ষণ বলের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে, তাকে রাসায়নিক বন্ধন বলে।
সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ দুটি পরমাণুর শেয়ারকৃত ইলেকট্রন যুগলকে কোনো একটি পরমাণুর নিজের দিকে আকর্ষণ করার আপেক্ষিক ক্ষমতাকে তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে।
যৌগ গঠনের সময় কোনো পরমাণু যতগুলো ইলেকট্রন বর্জন করে ধনাত্মক আয়নে বা যতগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়, সেই সংখ্যাকে চিহ্নসহ ঐ পরমাণুর জারণ সংখ্যা বলে।
কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল বা বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
স্থির চাপে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন বা শোষিত তাপের পরিমাণকে ঐ বিক্রিয়ার বিক্রিয়া তাপ বা এনথালপি পরিবর্তন (ΔH) বলে।
কোনো জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H+) মোলার ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে।
জীবদেহের গঠন ও শারীরবৃত্তীয় কাজের ক্ষুদ্রতম একক যা স্ব-প্রজননশীল এবং একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, তাকে কোষ বলে।
জীবদেহের সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী এবং বংশপরম্পরায় স্থানান্তরকারী দ্বি-সূত্রক সর্পিল নিউক্লিক অ্যাসিডকে ডিএনএ (DNA) বলে।
যে সমীকরণিক কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে সমআকৃতির, সমগুণসম্পন্ন এবং সমসংখ্যক ক্রোমোজোম বিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাকে মাইটোসিস বলে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে এবং উপজাত হিসেবে অক্সিজেন নির্গত করে, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কোষস্থ খাদ্যবস্তু অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে জারিত হয়ে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য জৈব শক্তি এটিপিতে (ATP) রূপান্তরিত করে, তাকে শ্বসন বলে।
এডিনিন ও রাইবোজ শর্করার সাথে তিনটি ফসফেট গ্রুপ যুক্ত হয়ে গঠিত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন জৈব যৌগকে এটিপি (ATP) বলে, যা জীবদেহের সমস্ত কাজের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে যে সংকরায়ণ বা ক্রস ঘটানো হয়, তাকে মনোহাইব্রিড ক্রস বলে।
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী জীব সম্প্রদায় এবং তাদের চারপাশের জড় পরিবেশের মধ্যকার পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া ও শক্তি বিনিময়ের সুষম ব্যবস্থাকে বাস্তুতন্ত্র বলে।
কোনো সেটের সকল উপসেট নিয়ে গঠিত সেটকে ঐ সেটের শক্তি সেট বা পাওয়ার সেট বলে।
দুটি সেটের প্রথমটির উপাদানকে প্রথম পদ এবং দ্বিতীয়টির উপাদানকে দ্বিতীয় পদ বিবেচনা করে যতগুলো ক্রমজোড় তৈরি করা যায়, তাদের সেটকে কার্তেসীয় গুণজ বলে।
দ্বিঘাত সমীকরণ $ax^2 + bx + c = 0$-এর মূলসমূহের প্রকৃতি যে রাশিটি দ্বারা নির্ধারিত হয়, সেই $b^2 - 4ac$ রাশিকে সমীকরণের নিশ্চয়ক বা পৃথকায়ক বলে।
ত্রিভুজের যেকোনো দুই বাহুর ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলের সমষ্টি, তৃতীয় বাহুর অর্ধেকের ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্র এবং ঐ বাহুর সমদ্বিখণ্ডক মধ্যমার ওপর অঙ্কিত বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফলের সমষ্টির দ্বিগুণের সমান।
যেসব রাশিকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান এবং দিক উভয়ের প্রয়োজন হয়, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বলে।
কোনো দৈব পরীক্ষায় কোনো ঘটনার অনুকূল ফলাফল সংখ্যা এবং মোট সম্ভাব্য ফলাফল সংখ্যার অনুপাতকে ঐ ঘটনার সম্ভাবনা বলে।
গণিতবিদ জর্জ বুল উদ্ভাবিত সত্য (১) ও মিথ্যা (০) এই দুটি লজিক্যাল মানের ওপর ভিত্তি করে গঠিত বিশেষ বীজগণিতকে বুলিয়ান অ্যালজেবরা বলে।
যেসব ইলেকট্রনিক সার্কিট বুলিয়ান অ্যালজেবরার যুক্তিমূলক প্রবাহ মেনে ইনপুটের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট আউটপুট প্রদান করে, তাদেরকে লজিক গেট বলে।
যে সারণির মাধ্যমে একটি লজিক সার্কিটের বা বুলিয়ান সমীকরণের সকল সম্ভাব্য ইনপুট কম্বিনেশনের বিপরীতে আউটপুটের মান প্রদর্শন করা হয়, তাকে সত্যক সারণি বলে।
যে ডেটাবেস ব্যবস্থায় ডেটা এক বা একাধিক আন্তঃসম্পর্কযুক্ত দ্বি-মাত্রিক টেবিলে (সারি ও কলাম) সংরক্ষিত হয় এবং সম্পর্কযুক্ত করা যায়, তাকে রিলেশনাল ডেটাবেস (RDBMS) বলে।
বোর্ড পরীক্ষা ও ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রমিত একক, মাত্রা ও বৈজ্ঞানিক চিহ্নের নিয়মাবলী
আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতিতে (Système International) বিজ্ঞানীদের নামে রাখা এককগুলোর পূর্ণ নাম ছোট হাতের অক্ষরে শুরু হয় (যেমন: newton, joule), তবে প্রতীক লিখলে বড় হাতের একক অক্ষর ব্যবহার করা হয় (যেমন: N, J)। অন্য সব সাধারণ এককের প্রতীক ছোট হাতের হয় (যেমন: meter এর প্রতীক m, kilogram এর প্রতীক kg)।
যেকোনো সঠিক সমীকরণের বামপক্ষ ও ডানপক্ষের মাত্রা সবসময় সমান হতে হয়, যা সমমাত্রিক নীতি (Principle of Homogeneity) নামে পরিচিত। মাত্রিক সংকেত সর্বদা তৃতীয় বন্ধনীতে [ ] প্রকাশ করা হয়। যেমন: বলের মাত্রা $[MLT^-2]$।